নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর দেশত্যাগের গোপন পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের নেপথ্যে যে মহান বিপ্লবীর নিঃশব্দ অবদান, তিনি হলেন যতীশ গুহ। ইতিহাস যাঁকে ভুলেছে, অথচ জাতির স্বাধীনতার পথে তাঁর ত্যাগ অবিস্মরণীয়।
![]() |
| যতীশ গুহ |
১৯০৫ সালের আশেপাশে পূর্ববঙ্গের ঢাকায় তাঁর জন্ম। প্রথমে ঢাকাতেই পড়াশোনা করেন, পরে কলকাতায় এসে ১৯৩০ সালে এম.এ এবং ১৯৩১ সালে বি.এল পাশ করেন। আইনের ডিগ্রি অর্জনের পর কিছুদিন ছোট আদালতে ওকালতি করেন।
কিন্তু তাঁর মন টানতো দেশসেবার দিকে। যোগ দিলেন গুপ্ত বিপ্লবী দলে। পরে ফরোয়ার্ড ব্লকের সক্রিয় কর্মী হয়ে ওঠেন। কলকাতায় যখন নেতাজি গৃহবন্দি, ঠিক তখনই দেশত্যাগের পরিকল্পনা শুরু করেন নেতাজি। এই বিপজ্জনক পরিকল্পনায় তাঁর সহচর হন যতীশ গুহ। বিপদের পরোয়া না করে বিপ্লবী যতীশ গুহ নেতাজিকে দেশত্যাগে সহায়তা করেন।
এ ঘটনা বেশি দিন গোপন থাকেনি। ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁর কৃতিত্বের খবর পেয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পাঠিয়ে দেয় দিল্লির লাল কেল্লায়। সেখানে শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। ব্রিটিশ সেনারা তাঁকে পাষাণের মতো পেটাতো—লাঠি, লাথি, পিন দিয়ে আঙুল বিদ্ধ করে। মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে, শরীরের প্রতিটি অঙ্গে অত্যাচারের ছাপ বসিয়ে দিত।
তবুও তিনি নীরব। মুখে একটিও শব্দ নেই নেতাজিকে নিয়ে। "মরণ হলেও হবে, কিন্তু নেতাজির গোপন আমি ফাঁস করবো না"—এই ছিল তাঁর প্রতিজ্ঞা।
অবশেষে দিনের পর দিন অত্যাচারে ভেঙে পড়ে তাঁর শরীর। মৃত্যুর আশঙ্কায় ব্রিটিশ সরকার তাঁকে জেল থেকে মুক্তি দেয়, যাতে জেলেই মৃত্যু হলে বিপদ না ঘটে। এক অবলম্বনহীন বৃক্ষের মতো তিনি নিঃশেষ হয়ে পড়েন।
১৯৪৬ সালে, স্বাধীনতার আগমুহূর্তে, এই নিঃশব্দ বীর চিরদিনের মতো চোখ বুজলেন—মাতৃভূমির কোলেই।
— লেখায় - প্রকাশ রায়

0 মন্তব্যসমূহ