ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এমন এক দিন রয়েছে, যা আজও অনেক ভারতবাসীর কাছে রয়ে গেছে অজানা — অথচ সেই দিনই লেখা হয়েছিল ভারতের স্বাধীনতার এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
![]() |
| নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু |
হ্যাঁ, দিনটি ছিল ১৯৪৩ সালের ২১শে অক্টোবর। সেই ঐতিহাসিক দিনে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সিঙ্গাপুর শহরে, মহামানব নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু প্রতিষ্ঠা করেন ভারতের প্রথম স্বাধীন সরকার — “আর্জি হুকুমত-এ-আজাদ হিন্দ” বা অস্থায়ী আজাদ হিন্দ সরকার।
এই সরকারই ছিল স্বাধীন ভারতের প্রথম রূপ। এর রাষ্ট্রপ্রধান, সর্বাধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নিজে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু — তাই বলাই যায়, তিনিই প্রকৃত অর্থে অখণ্ড ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।
এই সরকারের ছিল নিজস্ব মন্ত্রিসভা, ব্যাংক, মুদ্রা, সেনাবাহিনী, বেতার, আইনব্যবস্থা ও জাতীয় পতাকা।
মাত্র এক স্বপ্নে অনুপ্রাণিত হয়ে গড়ে উঠেছিল এই শক্তিশালী কাঠামো — “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব!”
আজাদ হিন্দ সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল জাপান, জার্মানি, বার্মা, ইতালি সহ মোট ১৩টি দেশ। ২৩শে অক্টোবর মধ্যরাতে এই সরকার একযোগে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এরই পর আজাদ হিন্দ ফৌজের তেজে কাঁপে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য।
প্রায় ৬০,০০০ সৈন্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল আজাদ হিন্দ ফৌজ, যাদের মধ্যে ২৬,০০০ বীরসন্তান প্রাণ বিসর্জন দেন মাতৃভূমির টানে। নেতাজি নিজ হাতে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নাম দেন — “শহীদ” ও “স্বরাজ দ্বীপ”। মনিপুর ও নাগাল্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছে যায় আজাদ হিন্দ বাহিনীর পদচিহ্ন।
যদিও সামরিকভাবে এই যুদ্ধ জেতা সম্ভব হয়নি, কিন্তু ভারতীয় হৃদয়ে জ্বলে উঠেছিল স্বাধীনতার জ্বালা।
আজাদ হিন্দ ফৌজের সাহস আর ত্যাগের আগুনেই জন্ম নেয় ১৯৪৬ সালের নৌ-বিদ্রোহ, আর সেই বিদ্রোহই হয়ে ওঠে ভারতের স্বাধীনতার শেষ প্রজ্জ্বলিত স্ফুলিঙ্গ।
আজও ২১শে অক্টোবর কেবল ইতিহাসের একটি তারিখ নয়, এটি ভারতের স্বাধীন আত্মার প্রতীক, এক মহাকাব্যিক দিনের স্মৃতি, যেদিন নেতাজি বলেছিলেন —
“দিল্লি চলো!” আর কোটি ভারতীয় হৃদয় প্রতিধ্বনিত করেছিল —
“জয় হিন্দ!”
— প্রকাশ রায়

0 মন্তব্যসমূহ